শনিবার, মে ১৬, ২০২৬

ঐতিহ্যের ৭৩ বছর পূর্তি, উৎসবমুখর পুনর্মিলনীতে মেতে উঠল মাসকাটা দিঘী স্কুল

উত্তর জনপদ প্রতিবেদক : ২৪ মার্চ ২০২৬ ১২:০৯ পূর্বাহ্ন শিক্ষা
উত্তর জনপদ প্রতিবেদক : ২৪ মার্চ ২০২৬ ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
ঐতিহ্যের ৭৩ বছর পূর্তি, উৎসবমুখর পুনর্মিলনীতে মেতে উঠল মাসকাটা দিঘী স্কুল

রাজশাহীর পবা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাসকাটা দিঘী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন-ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেন, একটি বিদ্যালয় শুধু বিদ্যাচর্চার স্থান নয়, এটি মানুষের জীবনের ভিত্তি গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ ও সহপাঠীদের সঙ্গে কাটানো সময় একজন মানুষের জীবনে অমূল্য স্মৃতি হয়ে থাকে। সেই স্মৃতিকে ধারণ করে আগামী প্রজন্মের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, বিদ্যালয়টির সরকারিকরণসহ যেসব সমস্যা ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ করতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. আবদুল ওয়াদুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফরিদ ইসলাম। অন্য বক্তারা বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও ঐক্য সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।

দীর্ঘদিন পর সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। কেউ স্মৃতিচারণ করেন ছাত্রজীবনের, কেউ ফিরে যান শৈশব-কৈশোরের নানা মুহূর্তে। অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ ও আনন্দঘন মিলনমেলার আয়োজন উপস্থিত সবার মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস যোগ করে।

আয়োজকেরা জানান, এই পুনর্মিলনী শুধু আনন্দের আয়োজন নয়, বরং বিদ্যালয়কে ঘিরে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি প্রয়াস। ৭৩ বছরের গৌরবময় পথচলায় এই আয়োজন নতুন করে সবার সামনে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, স্মৃতি ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছে।