বৃহস্পতিবার, মে ০৭, ২০২৬

জনগণ রাষ্ট্রের মালিক, সরকারি সেবায় তারা যেন তা অনুভব করেন: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক : ০৭ মে ২০২৬ ০২:৪১ পূর্বাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক : ০৭ মে ২০২৬ ০২:৪১ পূর্বাহ্ন
জনগণ রাষ্ট্রের মালিক, সরকারি সেবায় তারা যেন তা অনুভব করেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রশাসনকে শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়, মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

তিনি বলেছেন, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক।

তাই সরকারি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন সেই মালিকানা কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যে ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, দেশের জনগণ তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এটি এখন আর শুধু বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়, এটি জনগণের এবং সরকারের ইশতেহার।

এখন এই ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা।

মাঠ প্রশাসনকে সরকারের ‘প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের।

সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের সাফল্যই শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়।

সরকারি অফিসে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন সাধারণ মানুষ বা দিনমজুর যখন জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন বা অন্য কোনো সেবার জন্য সরকারি অফিসে যান, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অফিস ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই পুরো সরকার ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করেন।

তিনি বলেন, সেবাগ্রহীতা যদি আন্তরিক ব্যবহার পান, তবে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়। আর যদি তিনি হয়রানির শিকার হন, তবে সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। তাৎক্ষণিকভাবে সবার সব সমস্যার সমাধান হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু কর্মকর্তা তার সমস্যা সমাধানে আন্তরিক, ভুক্তভোগীর মনে অন্তত এই ধারণা জন্মানো জরুরি।

আইনের চেয়ে মানবিকতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায়, যেখানে সাধারণ মানুষ সম্মানের সঙ্গে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবে। আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষ যখন সেবার জন্য আসেন, তখন আইনি উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাদের প্রতি মানবিক আচরণও জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যবহার রাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়।

দেশের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমস্যা অসংখ্য, তবে সম্ভাবনাও কম নয়। ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’র সুযোগ নিয়ে তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে এই জনসম্পদই বাংলাদেশকে বদলে দিতে পারবে। এ সময় তিনি পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণের বিশ্বাস উল্লেখ করে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির মাধ্যমেই জনমনে এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে। দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আপনারা নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। সরকার আপনাদের যেকোনো আইনগত এবং মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় সহায়তা দেবে।