বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

রাজশাহীতে ঈদ উদযাপন, একই কাতারে ঈদের নামাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২১ মার্চ ২০২৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ন উত্তর জনপদের খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২১ মার্চ ২০২৬ ১১:২২ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীতে ঈদ উদযাপন, একই কাতারে ঈদের নামাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশের মতো রাজশাহীতেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ ও আনন্দের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের দিনের শুরুতেই নগরীর বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। নামাজ শেষে মুসল্লিরা দেশ, জাতি ও বিশ্ব শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। একই সঙ্গে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকার আহ্বান উঠে আসে বিভিন্ন পর্যায় থেকে।

নগরীর দরগাপাড়া হজরত শাহ্ মখদুম রূপোশ (রহ.) মাজার সংলগ্ন মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। জামাত শেষ হয় ৮টা ২০ মিনিটে। পরে একই স্থানে সকাল পৌনে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জামাত। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহের পরিবর্তে শাহ মখদুম দরগার মসজিদেই ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।

দরগা ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায় করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। নামাজ শেষে তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। মাতৃভূমি ও দেশকে রক্ষা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে সবার মধ্যে ঈদের ভালোবাসার বন্ধন অটুট রাখতে হবে।

নামাজ শেষে মুসল্লিরা দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করেন। পাশাপাশি হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে মিলেমিশে থাকার জন্য দোয়া করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর একই জামাতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে এক বিশেষ মুহূর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনও একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নগরীর জিন্নাহনগর জামে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাতে অংশ নেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। নামাজ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঈদ আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। সব হিংসা-বিদ্বেষ ও হানাহানি ভুলে একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে হবে। মাহে রমজানের শিক্ষা ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ছয়টি স্থানে ঈদের জামাতের ব্যবস্থা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, শান্তিপ্রিয় এ নগরীতে দল-মত নির্বিশেষে একত্রে কাজ করে রাজশাহীর উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া জিন্নাহনগর জামে মসজিদ, সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট মসজিদ, টিকাপাড়া মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ ও ডুয়েট মসজিদসহ রাজশাহীর বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সব মিলিয়ে এবারের ঈদ উদযাপনে রাজশাহীতে ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে।