চাঁপাইয়ে ককটেল বিস্ফোরণে নিহতের ঘটনায় জামায়াতে যোগ দেওয়া যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চর বাগডাঙ্গা ইউনিয়নের পাঠাপাড়া গ্রামে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহতের ঘটনায় জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শরীফ উদ্দীন দুলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অভিযান চালিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুলাল (৪০) চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ফাটাপাড়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে মো. কালামের বাড়িতে ককটেল তৈরির কাজ চলছিল। এ কাজে এলাকার বাইরে থেকে কারিগর নিয়ে আসেন কালামের ছোট ভাই দুলাল। বিস্ফোরণের পর তিনি গা ঢাকা দেন। তদন্তের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এ. এন. এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
উল্লেখ্য, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পাঠাপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়ির দেয়াল ধসে পড়ে এবং টিনের চাল উড়ে যায়। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গ্রেপ্তার দুলাল ভোটের আগে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছিলেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর বিকেলে চরবাগডাঙ্গার ফাটাপাড়া মদনমোড় গ্রামে এক উঠান বৈঠকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সাবেক এমপি লতিফুর রহমান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জামায়াতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেদিন দুলালের নাম ধরে বলেছিলেন, ‘আমার ছোট ভাই দুলাল আওয়ামী লীগের লোক ছিল। আজকে জামায়াতে ইসলামের লোক হয়েছে। অপরাধ করেছে? কি বলেন, অপরাধ করেছে? বরং উনি বেঁচে গেছেন জাহান্নামের আগুন থেকে।’
আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দিলে থানা-পুলিশ-আদালত সব দেখবেন বলেও সেদিন ঘোষণা দিয়েছিলেন জামায়াত নেতা লতিফুর রহমান।