রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

নদীতে ফুল ভাসিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ শুরু

অনলাইন ডেস্ক ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:৩৬ অপরাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
নদীতে ফুল ভাসিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণ শুরু

পাহাড়ে শুরু হয়েছে বর্ষবরণ উৎসব ‘বৈসাবি’। খাগড়াছড়িতে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘ফুল বিজু’র মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়েছে।

চেঙ্গী ও মাইনী নদী এবং আশপাশের ছড়া-খালে ফুল উৎসর্গের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে চাকমাদের ফুল বিজু। খাগড়াছড়ির খবংপুড়িয়া ও রিভারভিউ পয়েন্ট এলাকায় ভোর থেকেই শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ দলবদ্ধভাবে নদীতে গিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে ফুল নিবেদন করেন।

রঙিন ফুলে সাজানো চেঙ্গী নদীর দুই তীর যেন উৎসবের বর্ণিল রূপ ধারণ করে। পুরোনো বছরের দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক হিসেবেই এই আয়োজন ছিল।

ফুল পূজা দেখতে ও অংশ নিতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন শত শত মানুষ। এ সময় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার সহধর্মিনী ও জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছারসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফুল ভাসানো পরিদর্শন করেন।

আগামীকাল চাকমাদের মূল ‘বিজু’, আর নববর্ষের দিন পালিত হবে ‘গজ্জাপজ্জা’।

এদিকে চৈত্র সংক্রান্তি থেকে ত্রিপুরা সম্প্রদায় শুরু করবে তিন দিনের ‘বৈসু’ উৎসব। ‘হারিবৈসু’র দিনে নদীতে ফুল পূজার পাশাপাশি শিশুদের অংশগ্রহণে নতুন বুননের রিনাই-রিসা ভাসানোর আয়োজন থাকবে। ‘গরয়া নৃত্য’ তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ।

অন্যদিকে মারমা সম্প্রদায় নববর্ষকে ঘিরে পালন করবে ‘সাংগ্রাইং’ উৎসব। তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে থাকবে বুদ্ধ পূজা, পবিত্র জল দিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠদের স্নান করানো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘রি-আকাজা’ বা পানি উৎসব- যেখানে সবাই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, তঞ্চঙ্গ্যাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১০ ভাষাভাষীর ১৩টি জনগোষ্ঠী নিজ নিজ নামে ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব পালন করবে।

এদিকে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে বেড়েছে পর্যটকের সংখ্যা। বলা যায়, উৎসবের রঙে রঙিন পার্বত্য চট্টগ্রাম।