বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

ইরানকে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

উত্তর জনপদ ডেস্ক : ২২ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন আন্তর্জাতিক
উত্তর জনপদ ডেস্ক : ২২ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন
ইরানকে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আবারও সুর পাল্টে ইরানে ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত না করে, তবে হামলা চালিয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন হুমকি তার একদিন আগে বলা নিজের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। যখন তিনি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ কথা এবং নেতানিয়াহুকে ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে বলেছিলেন।

স্থানীয় সময় শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক পোস্টে এমন হুমকি দেন ট্রাম্প। খবর সিএনএন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেন, ‘ইরান যদি এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো রকম হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত করবে এবং সেগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেবে; আর এর শুরুটা হবে সবচেয়ে বড় কেন্দ্রটি দিয়ে!’

ট্রাম্পের এই হুমকি তার বাগাড়ম্বরের একটি চরম রূপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এর আগে তিনি ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত করার বিষয়টি ইঙ্গিত দিলেও সতর্ক করেছিলেন, এতে দেশটির পুনর্গঠনের ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তার এই নতুন অবস্থান মূলত এটিই পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিচ্ছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রাখা ইরানের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

ট্রাম্পের এই সর্বশেষ হুমকি এমন এক সময়ে এল যার মাত্র একদিন আগে তিনি বলেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ কথা ভাবছে। এমনকি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেছিলেন, ‘একটা নির্দিষ্ট সময়ে এটি নিজে থেকেই খুলে যাবে।’

এছাড়া গত বৃহস্পতিবারও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে বলেছেন।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই নৌপথটি দীর্ঘ মাসব্যাপী বন্ধ থাকার আশঙ্কা এড়াতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন। সিএনএন-এর আগের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার কোনো সহজ বা স্পষ্ট সমাধান বর্তমানে তাদের হাতে নেই।