পরীক্ষা ছাড়াই উত্তীর্ণ, সরকারি চাকরিতে যোগ দিতে এসে আটক চাকরিপ্রার্থী
লিখিত, ভাইভা কিংবা ব্যবহারিক কোনো পরীক্ষাতেই অংশ নেননি। কিন্তু নিয়োগপত্র হাতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) প্লাম্বার পদে যোগদান করতে এসে আটক হয়েছেন সুজা মিয়া (৩২) নামে এক চাকরিপ্রার্থী। সোমবার দুপুরে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
আটক সুজা মিয়া শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুকড়াপাড় গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে।
ব্রি সূত্র জানায়, দুইটি প্লাম্বার পদসহ মোট ৭৫টি শূন্য পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগের জন্য গত বছরের ৫ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ব্রি কর্তৃপক্ষ। গত ১ ফেব্রুয়ারি ব্রি’র বোর্ড সভায় অনুমোদনক্রমে উত্তীর্ণদের যোগদানের চিঠি পাঠানো হয়। সুজা মিয়া ৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগপত্র পান। রবিবার বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগ দিতে গেলে তাকে ব্রি’র গাজীপুরের সদর দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
সোমবার সকালে তিনি ব্রি’র ইমারত ও নির্মাণ বিভাগে চাকরিতে যোগদান করতে এলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। ব্রিতে থাকা কাগজপত্র যাচাই করে তারা দেখতে পান—নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবির সঙ্গে সুজা মিয়ার চেহারার মিল নেই। প্রবেশপত্রের ছবির ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে সুজা মিয়া জানান, ‘ছবির ব্যক্তির নাম মিলন। মিলনই তার হয়ে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা দিয়েছেন’।
শ্রীবরদী এলাকার মাহবুব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাত লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি পেয়েছেন। পরে তাকে আটক করে নগরীর সদর থানায় সোপর্দ করা হয়। আটকের খবর পেয়ে সুজা মিয়ার ভায়রা ভাই সজল মিয়া শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে ব্রিতে আসেন। সজল মিয়ার বাড়ি ব্রির মহাপরিচালকের বাড়ি পাশাপাশি গ্রামে।
ব্রি’র বিজ্ঞানী সমিতির সভাপতি ড. মো. ইব্রাহীম জানান, প্লাম্বার পদে যিনি ব্যবহারিক পরীক্ষা নিয়েছিলেন, সুজা মিয়াকে দেখে তার সন্দেহ হয়।
পরে নিয়োগ বোর্ডের ফাইলে থাকা তার প্রবেশপত্র বের করে ছবি গরমিল পাওয়া যায়। এক পর্যায়ে জিজ্ঞাসাবাদে সুজা মিয়া স্বীকার করেন, তার লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা মিলন নামে এক ব্যক্তি দিয়েছেন। ব্যবহারিক পরীক্ষা দিয়েছে মাহবুব নামে আরেক ব্যক্তি। অর্থাৎ নাম-পরিচয় ও ঠিকানা ঠিক থাকলেও পরীক্ষা দিয়েছে অন্য ব্যক্তি। বিষয়টি জালিয়াতি ও প্রতারণার শামিল। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে এ ধরনের আরো ঘটনা থাকতে পারে। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা দরকার।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনায় ব্রি কর্তৃপক্ষ সুজা মিয়াকে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় ব্রি’র সিকিউরিটি সুপারভাইজার ইকরামুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে ব্রি’র মহাপরিচালক ড. খালেকুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়োগ পাওয়া ৭৫ জনের কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে যাচাই-বাছাই করা হবে।